Academy

জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান দাবি করলেও রমজানের সাওম পালন করেন না। তিনি বলেন, আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না। তাই তিনি সাওম পালন করতে অস্বীকৃতি জানান। ইমাম সাহেব শুনে বললেন, হাশরের ময়দানে সাফল্য অর্জন করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে। 

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

যেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।

মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।

1 year ago

মৌলিক ইবাদত

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।

কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।

'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।

ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।

উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।

4 ইবাদত কত প্রকার? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।

5 হাক্কুল ইবাদ বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।

উদ্দীপকে রহিম কর্তৃক উল্লেখিত আল কুরআনের আলোকেই মানুষের জীবন পরিচালনা করতে হবে। মহাগ্রন্থ আল কুরআন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ। এ গ্রন্থটি অন্যান্য আসমানি কিতাবের ন্যায় একসাথে নাজিল হয়নি। বরং মানুষের প্রয়োজনানুসারে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মুহাম্মদ (স) এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। আর উদ্দীপকে রহিম কর্তৃক উল্লেখিত গ্রন্থটি কুরআন মজিদ।

উদ্দীপকে দেখতে পাই, করিম কোনো কাজ না করে শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে বসে থাকে। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে উপার্জনের জন্য কাজ করতে নির্দেশ করেছেন। ইসলামি শরিয়তের মূল উৎসই আল কুরআন। এর ওপরই ইসলামি শরিয়তের কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সব বিষয়ের মূলনীতি ও ইঙ্গিত এতে বিদ্যমান। এর মাধ্যমেই মানবজাতি দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি লাভ করতে পারবে। স্পষ্টতই পবিত্র কুরআনে দুনিয়ায় কীভাবে চলতে হবে সে বিষয়ের পাশাপাশি আখেরাতে সাফল্যের পথও দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুনিয়াতে সাবলম্বী জীবনযাপনের তাগিদে কুরআনে হালাল উপার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজের ভাগ্য নিজেকেই পরিবর্তনের চেষ্টা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। 'আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ পর্যন্ত একটা জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ তারা নিজেরা পরিবর্তনের চেষ্টা করে।

সুতরাং বলতে পারি রহিমের উল্লেখিত গ্রন্থ তথা কুরআন মাজিদ অনুযায়ী মানুষের জীবন পরিচালনা করতে হবে। 

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...